প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত আমরা দেখেছি আদর্শিক সংঘাত ও ক্ষমতার লড়াই। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে এখন বইছে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারের’ এক নতুন হাওয়া। ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও প্রবীণ রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি মেঘনা আলমের মধ্যকার সাম্প্রতিক কথোপকথন সেই নতুন ধারারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার রাজনীতিতে অভিজাত ও তৃণমূল ধারার দুটি স্রোত বিদ্যমান ছিল। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত রাজনীতি ছিল মূলত বৈঠকখানা ও ড্রয়িংরুম কেন্দ্রিক। তবে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতিকে আমজনতার কাছে নিয়ে আসে।
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে রাজনীতিতে মেরুকরণ ও শত্রুতা বৃদ্ধি পেলেও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সেই দেয়াল ভেঙে দেয়। ২০২৬ সালের এই নতুন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থাকা তরুণ নেতৃত্বের (এনসিপি) সাথে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ঘরানার জ্ঞানের আদান-প্রদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মেঘনা আলম জানান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে ফোন করেছিলেন। নির্বাচনের আগেই আসার কথা থাকলেও মিডিয়ার ‘নেগেটিভ ভিউ’র আশঙ্কায় তিনি আসেননি। তবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে শিগগিরই তিনি মেঘনা আলমের বাসায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
মেঘনা আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার কাছ থেকে শিখতে চান বলে জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে মেঘনা আলম এনসিপির ছোট ভাই-বোনদের জন্য ‘ফ্রি কোর্স’ অফার করেছেন। তিনি মনে করেন, যারা ফিল্ড পলিটিক্স ও গণজাগরণ থেকে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতা এবং যারা জন্ম থেকে রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে জ্ঞান অর্জন করেছেন (মেঘনার মতো), এই দুই পক্ষের সমন্বয় হলে একটি প্রকৃত স্বাধীন ও সম্মানিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
স্নেহ ও সম্প্রীতির কথা বললেও আদর্শের প্রশ্নে মেঘনা আলম ছিলেন আপসহীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "যদি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জিতলে জামায়াত ক্ষমতায় আসার সুযোগ না থাকত, তবে মেঘনা আলম নিজের প্রচার ও পোলিং এজেন্ট সরিয়ে নিয়ে বিএনপিকে (তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন) সামনে এগোতে দিত না।" তিনি আরও যোগ করেন, যে দল নারীর নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করে, তাদের তিনি ক্ষমতায় দেখতে চান না। ভবিষ্যতে আদর্শের পরিবর্তন হলে ভিন্ন বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির রাজনৈতিক যাত্রায় ২০২৬ সাল এক নতুন সন্ধিক্ষণ। এনসিপি ও মেঘনা আলমের এই কথোপকথন প্রমাণ করে যে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও আদর্শিক মতপার্থক্যকে শত্রুতার পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে ‘জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা’ শেয়ার করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। এটি মূলত ১৯ শতকের শুরুতে থাকা সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্কের ঐতিহ্যেরই এক আধুনিক পুনর্জাগরণ। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিকদের এই ঐক্যের বন্ধনই হতে পারে আগামীর স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি।
সূত্র: যুগান্তর, মেঘনা আলমের ফেসবুক পোস্ট (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), এনসিপি মিডিয়া সেল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্যানেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |